Thursday, February 16, 2017

রংপর, ঢাকা এবং সিলেটে "পেইস" পরিবার দুই বছরে পা দিল

By on 10:42:00 AM
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে মুক্তঝড়া হাঁসি উপহার দেয়ার মধ্য দিয়ে "পেইস" পরিবারের দুই বছর উৎযাপন রংপর, ঢাকা এবং সিলেটে।


তাদের কারও বাবা নেই কারও মা নেই, কেউবা প্রতিবন্ধী। কেউ সন্ধার পর পর শহরের নামকরা হোটেলগুলোর সামনে বেলুন কিংবা ফুল বিক্রি করে। অনেকে আবার ভিক্ষার পথও বেঁচে নিয়েছে অন্য কোন উপায়কে নিজের করতে না পেরে। বড় বড় হোটেলের কাছে তারা প্রতিদিন গেলেও সেসব হোটেলের খাবার খাওয়া স্বপ্নের মতো। অনুকূল পরিবেশে নিষ্ঠুর জীবনযুদ্ধেও তারা বেঁচে থাকতে শিখেছে। তারা পথশিশু নামে পরিচিত, তারা অবহেলিত! সমাজের বিওবান শ্রেণীর মানুষের একটুখানি সাহায্যে এগিয়ে আসলেও অভিযোগ দিতেও পিছপা হয় না এসব সদ্য ফুটন্ত ফুলকে।
নাহ! তারা এখন আর ভোরের আলো উদয়ের পর একটুখানি খাবারের আশায় শহরের এপিট-ওপিট হাহাকার করে বেড়ায় না, সমাজের আট-দশটা স্বাভাবিক ছেলেমেয়ের মতোই সূর্যিমামা দেখামাত্রই তারা পড়তে বসে। তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের নতুন প্লাট ফর্মের পাশে ছোট্র পরিসরে তাদেরকে নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্হ্যসেবা এবং উন্নত জীবন নিশ্চিৎকরণের লক্ষ্যে নেমেছে "ইচ্ছা পূরণ" এবং "পেইস"।

"পেইস" এর দুই বছর পূর্ণ উপলক্ষ্যে রেল স্টেশন সংলগ্ন এবং কলোনির শিশুদের নিয়ে "পেইস" পরিবারের ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা "2 years celebration of PACE with underprivileged children". অনুষ্ঠানে শিশুদের নিয়ে চিত্রাঙ্কণ, কবিতা আবৃতি এবং ছড়া প্রতিযোগীতা, মিনা কার্টুন প্রদর্শনী, কেক কাটা এবং খাবার বিতরণ করা হয়। অতিথিদের বরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল তিনটায়। উল্লেখ্য রংপুরের ভিন্নজগত এবং ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে "পেইস" পরিবার আয়োজিত অনুষ্ঠান করা হয় ব্যাপক উদ্দীপনায়।
প্রধান অতিথও হিসেবে হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, সিলেট শাখার সহকারী ম্যানেজার মোঃ আল জাহান, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর,সিলেট,বাংলাদেশ এর প্রশিক্ষক মোছাঃ নাসিমা আক্তার এবং কোয়েস আবাসিক হোটেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সানি আলান, অনুষ্ঠানে সভাপতিও্ব করেন "পেইস" এর প্রতিষ্ঠাতা এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ সাব্বির খান সায়েম। অনষ্ঠান শেষে সবাই একসাথে "আমরা করব জয়" গানটি পরিবেশন করে।
সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে দেশের প্রতিটি শিশুর অধিকার আছে হাঁসলে, খেলতে, গাওয়া কিংবা পড়ার। এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারলেই দেশ সমৃদ্ধির দিকে আরও দ্রততার সাথে এগিয়ে যাবে। "পেইস" পরিবার সবসময় সেরা চেষ্টা করবে দেশ এবং দশের জন্য। শুধু উওরবঙ্গ নয় "পেইস" এখন ভালবাসা এবং বিশ্বাসের নাম হতে যাচ্ছে প্রতিটি বঙ্গের মানুষের কাছে।
একই অনুষ্ঠান তিনটি বিভাগীয় শহরে উৎযাপন "পেইস" পরিবারকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল।
ভাষা আন্দোলনের মাসের শানিত ধারায় আলোকিত হোক প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত প্রাণ।
"পেইস" এর সম্ভাব্য পরিবর্তিত নাম "দিবা ফাইন্ডেশন"।

0 comments:

Post a Comment

Popular News